সরকার গত তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২১৩.৫৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি ন্যূনতম কর্তব্য যা আমাদের রাস্তার বিশৃঙ্খলায় প্রিয়জনকে হারানো বা আহত পরিবারগুলির জন্য করা উচিত। একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে এই তহবিলগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় লোকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ন্যায্য ও সমানভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা
ক্ষতিপূরণ নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেয়, তবে এটি সমস্যার মূল সমাধান করে না। বাংলাদেশের দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজন কেবল অর্থ প্রদান নয়, বরং প্রকৃত সংস্কার যা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রতি বছর বেপরোয়া ড্রাইভিং, অযোগ্য যানবাহন, ভিড়যুক্ত মহাসড়ক এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের কারণে হাজার হাজার প্রাণ হারায়। এই হত্যাকাণ্ড অনুমানযোগ্য, প্রতিরোধযোগ্য, তবুও তা অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কখনো শোক মুছে দিতে পারে না, বা প্রথম স্থানে এই ট্র্যাজেডিগুলি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
সরকারকে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। এখন সবাই জানে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার: ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, যানবাহনের বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষা এবং সর্বোপরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ
- যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
এছাড়াও আমাদের প্রয়োজন পিক ট্র্যাফিক সামলাতে সক্ষম অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং সচেতনতা প্রচারণা যা নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয় যে রাস্তায় তাড়াহুড়ো প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব
এই সব কিছুই সম্ভব হবে না যদি না অবহেলার চক্র ভাঙার রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকে, যা দুর্ভাগ্যবশত দশকের পর দশক ধরে অনুপস্থিত। বাংলাদেশকে দুর্ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে সম্পূর্ণরূপে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মনোনিবেশ করতে হবে। সেটাই সত্যিকার অর্থে উদযাপনের যোগ্য হবে।



