জলবায়ু বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকায় আটকে থাকা অপ্রতুল: বাপা
জলবায়ু বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকায় আটকে থাকা অপ্রতুল

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘পরিবেশ ও জলবায়ু খাত: ২০২৬-২৭ বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বছরের পর বছর ১০০ কোটি টাকায় আটকে থাকাকে অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

সংগঠনটি বলেছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বাড়লেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এই বরাদ্দ কেবলই শুভংকরের ফাঁকি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল আলোচনা

আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘পরিবেশ ও জলবায়ু খাত: ২০২৬-২৭ বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে এ কথা বলেছে বাপা। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সদস্য ফারহান হোসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাজেট একটি রাষ্ট্রের আলোকনির্দেশিকা এবং সরকারের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সদিচ্ছার প্রতিফলন। অতীতে পলিথিন নিষেধাজ্ঞা ও বেবিট্যাক্সির কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করার উদাহরণ তুলে ধরে প্রবন্ধে এবারও পরিবেশবান্ধব সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

তবে বরাদ্দের বৈপরীত্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করে প্রবন্ধে বলা হয়, দলীয় ছত্রচ্ছায়ায় বালু উত্তোলনকে উৎসাহিত করা একই সরকার যখন নদী ড্রেজিংয়ে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, জনগণের কাছে তা দ্বিমুখী আচরণ বলেই প্রতীত হয়।

বক্তাদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বাপার সভাপতি নুর মোহাম্মদ তালুকদার আমলানির্ভর গতানুগতিক বাজেট পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে বাজেটের অর্থ খরচের যে প্রবণতা অতীতে দেখা গেছে, তাতে দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনাই বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের আগে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার দাবি জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, বাজেট সব সময় মুখরোচক হয়ে থাকে, কিন্তু পরে তা অপচয় ও লোপাট করা হয়।

পাঁচটি সুপারিশ

সংবাদ সম্মেলনে বাপার পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

  • জলবায়ু খাতে বরাদ্দ ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করা;
  • উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প ও বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে কার্বন কর আরোপ এবং বর্জ্য শোধনাগারহীন শিল্পের ওপর জরিমানা;
  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ;
  • ক্লাইমেট টেকনোলজি স্টার্টআপদের জন্য ইনকিউবেশন সেন্টার ও সিড ফান্ড গঠন;
  • স্পারসোকে শক্তিশালী করে নদী দখল রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং সুন্দরবন এলাকায় কৃত্রিম বাঁধের পরিবর্তে নতুন ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যূহ তৈরি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাপার সহসভাপতি এম ফিরোজ আহমেদ, জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, সদস্য এম এ আব্দুল ওহাব প্রমুখ।