দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, আরও বিস্তৃত হতে পারে
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) শুক্রবার সকালে প্রকাশিত একটি বুলেটিনে জানিয়েছে যে দেশের বিভিন্ন অংশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এই তাপপ্রবাহ বর্তমানে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলাকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাপমাত্রার সর্বোচ্চ রেকর্ড
বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা নির্দেশ করে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই উচ্চ তাপমাত্রা জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
এদিকে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট বিভাগের এক বা দুটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা অস্থায়ী দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোর সাথে সংঘটিত হতে পারে। এই বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে তা সীমিত এলাকায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সাথে মাঝে মাঝে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সারা দেশে সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, যা তাপপ্রবাহের প্রভাবকে আরও তীব্র করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান ও ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।
নিম্নচাপের অবস্থান
বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপের খাত অবস্থান করছে, যা আবহাওয়ার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি নিম্নচাপ রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের জলবায়ু পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই নিম্নচাপের কারণে আগামী দিনগুলোতে আরও তাপপ্রবাহ বা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করবে বলে জানিয়েছে। নাগরিকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।



