জলবায়ু পরিবর্তন হাওর অঞ্চলের দুর্যোগ বৃদ্ধির মূল কারণ: ড. আইনুন নিশাত
বিশিষ্ট জল সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন দেশের হাওর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি প্রধান কারণ। তিনি বলেন, "প্রাকৃতিক পরিবেশ বোঝা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই চ্যালেঞ্জগুলো প্রশমনের জন্য অপরিহার্য"।
হাওর হ্যাকাথন ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান
বুধবার সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে 'হাওর হ্যাকাথন ২০২৬: জলবায়ু কর্মে উদ্ভাবন' প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, হাওর অঞ্চলের সম্প্রদায়গুলোর মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে আরও ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। তিনি সাধারণ জনগণ, শিক্ষার্থী এবং তরুণদের হাওর অঞ্চল সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণ
দিনব্যাপী এই হ্যাকাথনে সিলেট অঞ্চলের ১২টি দল তরুণ উদ্ভাবক অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং হাওর সম্প্রদায়কে প্রভাবিতকারী স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতার শেষে তাদের উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য তিনটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে 'নবপল্লব' প্রকল্পের অধীনে এই হ্যাকাথন আয়োজন করা হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ থেকে বাছাইকৃত বারোটি দল চূড়ান্ত পর্বে বিচারক প্যানেলের সামনে তাদের প্রকল্প উপস্থাপন করে। প্রতিটি দলকে তাদের ধারণা উপস্থাপনের জন্য সাত মিনিট এবং বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তিন মিনিট সময় দেওয়া হয়।
উদ্ভাবনী প্রকল্পের বিষয়বস্তু
প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা মোকাবিলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস উন্নত করা, মৎস্য ও কৃষি সম্পদ রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবিকা উন্নয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অংশগ্রহণকারীরা প্রদর্শন করেন কীভাবে উদ্ভাবনী পদ্ধতি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।
উপস্থাপনার পর বিচারক প্যানেল তাদের মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শীর্ষ তিনটি দল নির্বাচন করেন। আয়োজকরা আরও উল্লেখ করেন যে হ্যাকাথনের সময় উত্পন্ন উদ্ভাবনী ধারণাগুলো পরবর্তীতে নবপল্লব প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানের সূচনা
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সি৩ইআরের উপপরিচালক রওফা খানম। কেয়ার বাংলাদেশের উপপরিচালক ও প্রকল্পের ডেপুটি চিফ অব পার্টি মৃত্যুঞ্জয় দাস নবপল্লব উদ্যোগের পটভূমি ও তাৎপর্য উপস্থাপন করেন। সি৩ইআরের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ইশতিয়াক ইবনে রাউফ হ্যাকাথনের প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো রূপরেখা দেন।
এই আয়োজন হাওর অঞ্চলের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ ও গবেষণার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে। ড. আইনুন নিশাতের বক্তব্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে।
