বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়, দিল্লি ও লাহোর শীর্ষে
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ, আর মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘ সময় ধরে এই দূষণের কবলে থাকলেও আজ সকালে বাতাসের মান ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেশিরভাগ সময় দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে অবস্থান করে রাজধানী ঢাকা, এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে হয়ে ৩য় অবস্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ২৫২ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে আছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যেখানে বাতাসের মান নাগরিকদের জন্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়াও একই তালিকায় ২৩৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজধানী ঢাকার স্কোর ২১৭ এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের ২০৪ স্কোর নিয়ে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছে।
একিউআই স্কেল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের গুণমান নির্ধারণের একিউআই স্কেল অনুযায়ী ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ মাঝারি, ১০১-১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়, ৩০১ বা তার বেশি একিউআই স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশের একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নাগরিকদের জন্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, তাই বাইরে বের হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে কম বের হতে বলা হয়েছে।
সমাধানের পথ
শহরে সবুজায়ন ও গাছপালা বৃদ্ধির মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ঢাকার বাতাসের মান উন্নত হয়ে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পারে।
