কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একাধিক মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা (৩৫) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত আরা একটি মাদক মামলায় জাহাঙ্গীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই মামলায় রাজু আহমেদ ওরফে মুসা মোল্লা নামে অপর এক আসামিকে আদালত গ্রেপ্তার করলেও জাহাঙ্গীর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
জাহাঙ্গীরের পরিচয় ও অভিযোগ
জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের ঘুঘুমারী গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম মোল্লার ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং নদী ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের ওপর হামলাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন এবং বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলা ও দখলের ঘটনা
গত ১২ জুন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো নিঃস্ব কিছু পরিবার সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর পরিত্যক্ত জায়গায় আশ্রয় নিলে জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জাহাঙ্গীর তাদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। দখলদারিত্বের অভিযোগ কেবল বসতবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই। চরশৌলমারী বাজারে একটি দোকান ঘর দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জোবায়দুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর তার দলবল নিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্রের মুখে দোকানটি দখলের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় বণিক সমিতির হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়। চরশৌলমারী বণিক সমিতির সভাপতি ডা. কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের পক্ষ থেকে চাবির ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দোকানটি খুলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চরশৌলমারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এমএ ছাত্তার জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একসময় ছাত্রদলের আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকলেও বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে নেই। রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজ্জাক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বিএনপিতে মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজদের কোনো স্থান নেই এবং তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
পুলিশের অবস্থান
এদিকে পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাসী হামলার মামলা থাকার বিষয়টি সত্য। তবে গত ২৯ এপ্রিল আদালত তাকে যে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেছেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন, সেই আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশের কপি হাতে না পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।



