চীনের এক হাজার বছরের পুরোনো পাইনগাছ, যা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত, তার সুরক্ষায় নিযুক্ত রয়েছেন হু শিয়াওসোং। তিনি এই গাছের ১৯তম প্রজন্মের রক্ষক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই পাইনগাছটি চীনের বিখ্যাত ইয়েলো মাউন্টেনের (হুয়াংশান পর্বত) সবচেয়ে আইকনিক নিদর্শন।
গাছটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশে অবস্থিত ইয়েলো মাউন্টেন পর্যটন খাতের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। ইংকেসোং বা ‘গেস্ট-গ্রিটিং পাইন’ নামে পরিচিত গাছটি আতিথেয়তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অবিশ্বাস্যভাবে এটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকা শক্ত গ্রানাইট পাথরের গা থেকে জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে।
হু শিয়াওসোংয়ের দায়িত্ব
হু শিয়াওসোং বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এই কাজ করছি। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা পরপর টহল দিয়ে এই গাছ পরীক্ষা করি এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করি।’ তাঁর কাজ হলো তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অতিরিক্ত উৎসাহী পর্যটকদের হাত থেকে এ ঐতিহাসিক গাছকে রক্ষা করা।
প্রযুক্তির ব্যবহার
আধুনিক প্রযুক্তি গাছটিকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২০ সালে একটি অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা হয়, যা কোনো পর্যটক গাছটির খুব কাছে চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়। হু বলেন, ‘আমি সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্র দ্রুত টহল দিতে পারি। এতে অনেক সময় বাঁচে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
হুর ভাষায়, বরফ-শীতল বৃষ্টি এ পাইনগাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ের। চীনের ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টার জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বেশি বিস্তৃত এলাকায় তীব্র বরফ-শীতল বৃষ্টি হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হু আরও বলেন, ‘তীব্র আবহাওয়ার সময় আমাকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর গাছটি পরীক্ষা করতে হয়। আর যদি প্রবল বাতাস বা বন্যা হয়, তাহলে আমরা সারা রাত জেগে থাকি।’
পর্যটক ব্যবস্থাপনা
গত বছর ইয়েলো মাউন্টেনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। হুর মতে, আজকাল পর্যটকেরা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ম মেনে চলেন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মেয়ররা হুয়াংশানের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান। ইতালির গ্রাদারার মেয়র ফিলিপ্পো গাস্পেরি বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা।’
বৈশ্বিক সংলাপ
গত সপ্তাহে হুয়াংশানে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সংলাপে ইতালি, জার্মানি, থাইল্যান্ডসহ ১০টি দেশের মেয়ররা অংশ নেন। তাঁরা আরও টেকসই শহর গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। নেপালের পোখারা শহরের মেয়র ধন রাজ আচার্য বলেন, ‘আমরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধস এবং দ্রুত নগরায়ণের মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’
সান মারিনো-চীন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্বকারী আনা জিওর্জেটি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে চীনের বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তির ব্যবহার অনুসরণ করতে চাই।’ তিনি সম্প্রতি বিওয়াইডির সঙ্গে সান মারিনোর চুক্তিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।



