যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেন্টাগনের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি
প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে সামরিক বাহিনী প্রতি ব্যারেল জ্বালানির জন্য গড়ে ১৫৪ দশমিক ১৪ ডলার ব্যয় করলেও এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫ দশমিক ৭২ ডলারে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে জ্বালানির গড় মূল্য প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে পেট্রোল, জেট ফুয়েলসহ প্রায় ২৪ ধরনের জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পেন্টাগনের অতিরিক্ত ব্যয়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি বছরে সামরিক বিমান, ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনায় পেন্টাগনের অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বছরে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ব্যবহার করে।
শুধু সামরিক জ্বালানিই নয়, বেসামরিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক বিমান ভাড়াও বেড়েছে। প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে সেনাসদস্যরা প্রায়ই বাণিজ্যিক ফ্লাইট, ভাড়ার গাড়ি এবং ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করেন। ফলে এসব খাতে ব্যয় বৃদ্ধিও বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভ্রমণ খাতে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। অন্তত এপ্রিল মাস থেকে কিছু সামরিক ইউনিট প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে কিংবা বাতিল করেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল অরল্যান্ডো হাওয়ার্ড বলেন, বর্তমান জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যা জনবল, সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনের খরচকে প্রভাবিত করছে।
বাজেট ঘাটতি
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। অর্থবছর শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এই ঘাটতির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান, সীমান্ত নিরাপত্তা মিশনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের চলমান মোতায়েন।



