ফুকুশিমায় তেজস্ক্রিয়তা দূর করতে সূর্যমুখী ফুলের ব্যর্থতা
ফুকুশিমায় তেজস্ক্রিয়তা দূষণে সূর্যমুখী ফুলের ব্যর্থতা

২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের পূর্ব উপকূলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে মিয়াগি ও ফুকুশিমা অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ওকুমার ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যা বাতাসে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ছড়িয়ে দেয়।

সূর্যমুখী ফুলের ব্যবহার

জাপান সরকার এখনো প্রায় ১০ লাখ টন তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পানি ও কঠিন বর্জ্য নিরাপদ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সূর্যমুখী ফুলের ব্যবহার করা হয়, যা তেজস্ক্রিয়তা শোষণে সক্ষম বলে প্রমাণিত। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের কয়েক মাস পর বৌদ্ধমন্দিরের প্রধান ভিক্ষু কোয়ু আবে এলাকায় সূর্যমুখী, শর্ষে ও মোরগফুল লাগান। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই গাছগুলো মাটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা শুষে নিতে পারে। ধারণা করা হয়, ফুকুশিমায় ফোটা প্রায় ৮০ লাখ সূর্যমুখীর উৎস ছিল সেই মন্দিরটি।

বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

মাটি পরিষ্কারের এই পদ্ধতি শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এর পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল বিপর্যয়ে সূর্যমুখী রোপণ করে সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্তিকাবিজ্ঞানী মাইকেল ব্লেলক জানান, সূর্যমুখীগাছ নির্দিষ্ট তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ নিজের ভেতর টেনে নিতে দক্ষ। চেরনোবিলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই ফুল চাষ করে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব কমানো সম্ভব হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সূর্যমুখী কেন কার্যকর

সূর্যমুখী দ্রুত বড় হয় ও যেকোনো মাটিতে মানিয়ে নিতে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি মাটি থেকে বিষাক্ত পদার্থ শুষে নিয়ে পাতা ও কাণ্ডে জমা করে রাখে। ফলে পুরো গাছের শিকড় উপড়ে ফেলার প্রয়োজন হয় না, শুধু ওপরের অংশ কেটে নিলেই চলে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ফাইটোরেমিডিয়েশন বলেন। চেরনোবিলে মাটি ও পানি থেকে সিজিয়াম ও স্ট্রনশিয়াম দূর করতে এই পদ্ধতি কাজে দিয়েছিল। সিজিয়াম দেখতে পটাশিয়ামের মতো, যা গাছের সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন, আর স্ট্রনশিয়ামকে গাছ ক্যালসিয়াম ভেবে শুষে নেয়।

ফুকুশিমায় ব্যর্থতা

চেরনোবিলে সফল হলেও ফুকুশিমায় সূর্যমুখীর এই অভিযান আশানুরূপ ফল দেয়নি। বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ বলছে, ফুকুশিমার মাটিতে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের মাত্রা কমানোর মতো কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। এর কারণ হলো ভৌগোলিক গঠনের পার্থক্য। চেরনোবিলে কাজ শুরু হয়েছিল বিপর্যয়ের কয়েক বছর পর, যখন তেজস্ক্রিয় সিজিয়াম মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। কিন্তু ফুকুশিমার মাটি ভিন্ন, বিশেষ করে যেসব মাটিতে শক্ত কাদামাটির পরিমাণ বেশি, সেখানে সিজিয়াম একবার গেঁথে গেলে তাকে টেনে বের করা প্রায় অসম্ভব। মাটির এই ভিন্নতার কারণেই ফুকুশিমায় সূর্যমুখী তার স্বাভাবিক ক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।