ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে সমাবেশ, আনু মুহাম্মদ জাতিসংঘের পদত্যাগ দাবি
ইরানে আগ্রাসন প্রতিবাদে সমাবেশ, আনু মুহাম্মদ জাতিসংঘের পদত্যাগ দাবি

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদ আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী দস্যুতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকারই করে না, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মারাত্মক ব্যর্থতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ সকলের পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ঔদ্ধত্যের নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জেলে থাকার কথা থাকলেও তাঁদের ঔদ্ধত্যে সারা বিশ্ব জ্বলছে বলে উল্লেখ করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ট্রাম্প যৌন হয়রানি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, অথচ তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরান আক্রমণ করছেন। নেতানিয়াহুকেও আন্তর্জাতিক আদালত যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাম্রাজ্যবাদের ধারাবাহিকতা

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ব্রিটিশ ও ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরান আক্রমণের মাধ্যমে এই দখলযজ্ঞ ভয়ংকর মাত্রা পেয়েছে। জার্মান বামপন্থী নেতা রোজা লুক্সেমবার্গের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ যত টিকে থাকবে, তত বেশি বর্বরতা তৈরি হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা

ভাসানী পরিষদের নেতা হারুন অর রশিদ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। পরিষদের জুলফিকার আলী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান এবং বাসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্যসহ অনেকে বক্তব্য দেন। তাঁরা বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান জানান।

এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দাবি জানান। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ শেষে বলেন, বিশ্বব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়, এবং এজন্য গণআন্দোলন জরুরি।