মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং
মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং, শপথ নিলেন নেপিদোয়

মিয়ানমারে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং

মিয়ানমারের রাজনৈতিক পটভূমিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী নেপিদোয় অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পার্লামেন্ট ভবনে আয়োজিত হয়, যেখানে ৬৯ বছর বয়সী হ্লাইং বলিষ্ঠ কণ্ঠে তার দায়িত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সামরিক অভ্যুত্থান থেকে প্রেসিডেন্ট পদে উত্তরণ

মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্তরণের পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত ইতিহাস। পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালে, তিনি তৎকালীন সেনাপ্রধান হিসেবে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এই ঘটনার পর থেকে মিয়ানমারে একটি তীব্র গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটির স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করছে।

প্রায় অর্ধ-দশক ধরে বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশ শাসন করার পর, হ্লাইং চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করেন। এই নির্বাচনটিকে অনেক পর্যবেক্ষক একপেশে হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ এতে অং সান সুচির দলসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলস্বরূপ, সাবেক সেনাসদস্য ও সেনাবাহিনীর মিত্ররা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে, যা হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার

শুক্রবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারে ‘ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার’ প্রতিশ্রুতি দেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরুতে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমি মিয়ানমারের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করছি’। এই পদে আসীন হওয়ার আগে, তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন, যা তার রাজনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সোমবার থেকে মিয়ানমারে নববর্ষের উৎসব থিনগিয়ান শুরু হতে যাচ্ছে, যা দেশটির সাংস্কৃতিক জীবনের একটি বড় ঘটনা। তবে, এই উৎসবের প্রাক্কালে হ্লাইংয়ের শপথগ্রহণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

গণতন্ত্র নিরীক্ষক সংস্থাগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াকে তীব্রভাবে নাকচ করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনটি ছিল প্রহসনমূলক, এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সামরিক শাসনের কার্যত কোনো পার্থক্য নেই। একে তারা নতুন মোড়কে পুরনো পণ্যের প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে, মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ কী দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ চলছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তার শাসনকাল কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।