আইএইএ সাবেক প্রধান এলবারাদেয়ির জরুরি আবেদন: ট্রাম্পের ইরান আল্টিমেটামে যুদ্ধ ঠেকাতে পদক্ষেপ চাইলেন
আইএইএ সাবেক প্রধান এলবারাদেয়ির আবেদন: ট্রাম্পের ইরান আল্টিমেটামে যুদ্ধ ঠেকান

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাবেক প্রধান এলবারাদেয়ির জরুরি আবেদন

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ এলবারাদেয়ি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলবারাদেয়ির উদ্বেগ ও সতর্কতা

এলবারাদেয়ি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন, 'দয়া করে এই পাগল ব্যক্তিটি পুরো অঞ্চলকে আগুনের পিণ্ডে পরিণত করার আগেই আপনাদের ক্ষমতার মধ্যে যা কিছু আছে তা দিয়ে এটি ঠেকানোর চেষ্টা করুন।' মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই চরমপত্র অঞ্চলটিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি কেবল আঞ্চলিক নেতাদের কাছেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘের কাছেও এই উন্মাদনা থামানোর উপায় জানতে চেয়েছেন। ইংরেজিতে লেখা একটি পৃথক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কি আসলেই কোনো উপায় নেই?

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতের ভুল তথ্য ও বর্তমানের যুদ্ধের ঝুঁকি

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের অসারতা তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া এই সাবেক আইএইএ প্রধান ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে 'নিজের ইচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ' বা 'ওয়ার অফ চয়েস' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, তেহরানের কাছ থেকে কোনো আসন্ন হুমকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধের পথে হাঁটছে, তার চড়া মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করছে এমন কোনো প্রমাণ ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই একটি সার্বভৌম দেশের ওপর এ ধরনের সামরিক চাপ তৈরি করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কা

এলবারাদেয়ি তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, অতীতেও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধগুলো শুরু হয়েছিল, তার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তাই আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলবারাদেয়ির এই আকুল আবেদন মূলত সেই সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধ করার একটি শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক জিঘাংসা ও বিশ্বনেতাদের ভূমিকা

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক জিঘাংসা মেটাতে গিয়ে নিরপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বনেতারা যদি কোনো রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যেতে পারে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এলবারাদেয়ির এই আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা যুদ্ধের সম্ভাবনা রোধে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।