ইরানের অনুমোদনে হরমুজ প্রণালীতে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচল শুরু
মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরান সরকারকে ধন্যবাদও জানান।
নিরাপত্তা ও শর্তাবলী নিয়ে অনিশ্চয়তা
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। তবে কতটি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে বা কী শর্তে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এই অনিশ্চয়তা চলাচল প্রক্রিয়ায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ও মালয়েশিয়ার পদক্ষেপ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটিও প্রভাবিত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হলেও মালয়েশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
তিনি আরও বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়তে পারে এবং সার ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অনেক দেশের তুলনায় মালয়েশিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো, তবুও দেশটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি পর্যায়ে সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
ইরানের টোল আরোপের প্রস্তাব
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কিছু জাহাজের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই অনুমোদন মালয়েশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও শর্তাবলী ও টোল সংক্রান্ত ইরানের পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।



