ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা কোনো অনুরোধই অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং ওয়াশিংটন এবং ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরু করার আগে মিত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের অসন্তোষ ও অ্যালবানিজের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট মিটিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা খুব একটা ভালো ছিল না এবং আমি তাদের প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা অবাক হয়েছি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যালবানিজ বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

অ্যালবানিজ আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ভূমিকা ও জোটে অংশগ্রহণ

অস্ট্রেলিয়া সরকার এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি 'ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল' নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারায় সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে ক্যানবেরা শুরুতে কিছুটা দোটানায় ছিল। পরে অবশ্য তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে ২২টি দেশের একটি জোটে নাম লেখায় অস্ট্রেলিয়া।

প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জোর দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ তাদের কাছে এসেছে, তার প্রতিটিই রক্ষা করা হয়েছে। এই বিবৃতির মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। অ্যালবানিজের এই জবাবদিহি ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আরও স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।