ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগ, অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় কেলেঙ্কারি
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করে তা নিষ্পত্তি না করেই রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের একটি নতুন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির ফলে বিশেষ করে ৯২টি দেশের নাগরিকদের ভিসা ও স্ট্যাটাস আবেদন স্থগিত করার কারণে সরকার এমন আবেদন ফি সংগ্রহ করেছে, যেগুলোর নিষ্পত্তি করার কোনো পরিকল্পনাই নেই।
গবেষণায় উল্লেখযোগ্য দাবিসমূহ
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের গবেষণায় অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, "সরকার আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে, কিন্তু এখন তাদের আবেদনগুলো বিচারই করছে না—অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের নোটিশ পর্যন্ত দিচ্ছে না।" এমনকি স্টেট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ আবেদনকারীদেরও এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানাতে নিরুৎসাহিত করছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত নীতিসমূহ
এই অভিযোগের পেছনে কয়েকটি নীতিকে দায়ী করা হয়েছে:
- ৪০টি দেশের ওপর সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
- কর্মসংস্থান অনুমতি ও স্থায়ী বসবাসের মতো অভিবাসন সুবিধার আবেদন স্থগিত ও পুনর্মূল্যায়ন
- সম্প্রতি ঘোষিত ৭৫টি দেশের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখা
প্রশাসনের দাবি, এসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। সমষ্টিগতভাবে এই নীতিগুলো এমন দেশগুলোকে প্রভাবিত করছে, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বৈধ অভিবাসীদের প্রায় অর্ধেক আসে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ আবেদন বর্তমানে ঝুলে আছে।
প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত জানুয়ারিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই নীতির ঘোষণা দেয়। তখন প্রশাসন অভিযোগ করে যে, মিনেসোটায় সোমালি অভিবাসীরা ব্যাপকভাবে সরকারি সুবিধা অপব্যবহার করছে—যদিও সমালোচকরা এটিকে ভিত্তিহীন দাবি বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও কিছু মার্কিন নাগরিক এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, অধিকাংশ ভিসা আবেদনকারী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি সহায়তার যোগ্যই হন না এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। মামলাকারীদের মধ্যে এমন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। যেমন নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক ব্যক্তি, যার স্ত্রী ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য গুয়াতেমালায় গিয়ে আটকে পড়েছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সমালোচনা
জোয়ানা কুয়েভাস ইনগ্রাম বলেন, এই নীতিটি মূলত ১৯২০-এর দশকের বর্ণভিত্তিক অভিবাসন কোটার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তার ভাষায়, "জালিয়াতি দমনের অজুহাতে হোয়াইট হাউস পুরনো সেই বর্ণবাদী কোটাগুলোই পুনর্বহাল করতে চাইছে।" উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেছিলেন।
এই অভিযোগগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। গবেষণা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে এই ইস্যুটি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।



