শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান
শ্রীলঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে

শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান চলতি মাসের শুরুর দিকে শ্রীলঙ্কার একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে চেয়েছিল, কিন্তু দেশটির সরকার সেই অনুমতি দেয়নি। আজ শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এ তথ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি বিমান অবতরণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পেছনের কারণ

দিশানায়েকে ব্যাখ্যা করেন, 'তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সেখানে জিবুতির একটি ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি যুদ্ধবিমান আনতে চেয়েছিল।' প্রেসিডেন্টের এই তথ্য শুনে আইনপ্রণেতারা করতালি দেন। এরপর তিনি যোগ করেন, 'শ্রীলঙ্কার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আমরা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছি।' উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই অনুরোধ করেছিল।

ইরানের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান

একই দিনে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি জাহাজের শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজন করা একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় যেতে চেয়েছিল। সেই অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। দিশানায়েকে পার্লামেন্টে বলেন, 'আমরা এই অনুরোধগুলো বিবেচনা করছিলাম। যদি আমরা ইরানকে “হ্যাঁ” বলতাম, তবে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রকেও “হ্যাঁ” বলতে হতো।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও শ্রীলঙ্কার ভূমিকা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। বর্তমানে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার জলসীমায় ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামের একটি সামরিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা চালায়। জাহাজটি ভারতে নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর ইরানে ফিরছিল।

  • হামলায় ইরানের অন্তত ৮৪ জন ক্রু নিহত হন।
  • শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জন ক্রুকে উদ্ধার করে।
  • কারিগরি ত্রুটির কবলে পড়া দ্বিতীয় একটি ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’ এবং এর ক্রুদেরও উদ্ধার করেছিল শ্রীলঙ্কা।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান অবস্থা

২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ–সংকটের মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান তাদের চায়ের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর বর্তমানে শ্রীলঙ্কা সফর করছেন এবং গতকাল তিনি দিশানায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।