বিশ্ব সুখ দিবসে প্রকাশিত রিপোর্ট: ফিনল্যান্ড টানা নবমবার শীর্ষে, বাংলাদেশ ১৩৪তম
বিশ্ব সুখ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট-২০২৬’-এ টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। শুক্রবার (২০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ১৪৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম স্থানে রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পেছনে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানই অবস্থান করছে, যা দেশটির সামগ্রিক সুখ-সূচকের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।
প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতি ও মূল্যায়নের মানদণ্ড
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার, গ্যালাপ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশগুলোর মূল্যায়ন করা হয়েছে মাথাপিছু জিডিপি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, গড় আয়ু, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মাত্রা, উদারতা এবং দুর্নীতির হারসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এবারের প্রতিবেদনের জন্য ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের গড় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা দেশগুলোর সুখ-সূচকের একটি সামগ্রিক ও নির্ভরযোগ্য চিত্র উপস্থাপন করে।
বিশ্ব সুখ দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য
প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্ব সুখ দিবস বা হ্যাপিনেস ডে পালিত হয়, যা ২০১২ সালের জুনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে তাদের জীবনে সুখ এবং সুস্থতার গুরুত্ব উপলব্ধি করানো, পাশাপাশি সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সুখ-ভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করা। বিশ্ব সুখ দিবসের মাধ্যমে জাতিসংঘ সুখকে মানব উন্নয়নের একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সুখী দেশের তালিকা
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট-২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সুখী দেশের তালিকা নিম্নরূপ:
- ফিনল্যান্ড
- ডেনমার্ক
- আইসল্যান্ড
- সুইডেন
- নেদারল্যান্ডস
- কোস্টারিকা
- নরওয়ে
- ইসরায়েল
- লুক্সেমবার্গ
- মেক্সিকো
এই তালিকায় ফিনল্যান্ডের টানা নবমবার শীর্ষস্থান ধরে রাখা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা দেশটির সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার মানের উচ্চ স্তরকে প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ১৩৪তম অবস্থান দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা সুখ-সূচক উন্নয়নে আরও মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



