ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলার আহ্বান চীনের
ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার আহ্বান চীনের

ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলার আহ্বান চীনের

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসলাম বিদ্বেষের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে চীন। সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষ বিরোধী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া ভাষণে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, সব দেশের উচিত চরমপন্থি মতাদর্শ ও সভ্যতার সংঘাতকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা এবং ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার উসকানি নিষিদ্ধ করা।

ইসলামোফোবিয়া জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন

সুন লেই তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইসলামোফোবিয়া জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এটি সমগ্র মানবতার অভিন্ন মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে এবং শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংহতি ও সহযোগিতা জোরদারে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রচেষ্টাকে ইসলাম বিদ্বেষ গুরুতরভাবে ব্যাহত করে

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও বৈষম্য বৃদ্ধি

বর্তমানে বিশ্বের অনেক অংশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সহিংসতা বেড়েই চলেছে বলে উল্লেখ করেন সুন লেই। তিনি বলেন, ইসলামোফোবিয়া আঞ্চলিক সংঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইসলাম বিদ্বেষ নির্মূলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

ইসলাম বিদ্বেষ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা
  • সংহতি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি
  • সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসন
  • যৌথভাবে উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের পথে এগোনো

সুন লেই বলেন, জনগণ যাতে উন্নয়নের সুফল ও সর্বশেষ প্রযুক্তিগত সাফল্য ভোগ করতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার মূল কারণ, অর্থাৎ দারিদ্র্য ও অসমতা দূর করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা

চীনের প্রতিনিধি বলেন, আমাদের অবশ্যই যৌথভাবে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করতে হবে। বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সহাবস্থান ও পারস্পরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের মধ্যে বন্ধনকে লালন করতে হবে এবং সব ধরনের বাধা ও ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে হবে।

সুন লেই শেষ করেন এই বলে যে, শান্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।