জাতিসংঘে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নে দৃঢ় অবস্থান
জাতিসংঘে নারীর সমঅধিকারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নে দৃঢ় অবস্থান

নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন।

বেইজিং ঘোষণা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন সূচকের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিচয় বা আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার উন্মুক্ত হতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা লাভ করতে পারে। এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বাংলাদেশি নারীদের অবদান ও নতুন চ্যালেঞ্জ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এই চ্যালেঞ্জগুলো বিশেষভাবে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের উপর প্রভাব ফেলে, যা তাদের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে।

অধিবেশনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

উল্লেখ্য, নারীর অবস্থা বিষয়ক জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৯-১৯ মার্চ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের নারী উন্নয়ন নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে:

  • নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অটুট প্রতিশ্রুতি
  • বেইজিং ঘোষণা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে কাজ করা
  • নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা জোরদার করা
  • আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা

এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।