জাতিসংঘে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান: নারী ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
বৈদেশিক মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নারী সমতা ও নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি মার্চ ১৭ তারিখে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নারী মর্যাদা কমিশনের (সিএসডব্লিউ৭০) ৭০তম অধিবেশনে জাতীয় বক্তব্য প্রদানকালে এই অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
নারী ন্যায়বিচার: বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার
বৈদেশিক মন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য একটি কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বেইজিং ঘোষণা ও প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডার আলোকে এই বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ড. রহমান উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশের নারীরা জাতীয় উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।"
শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি নারীদের অবদান
বৈদেশিক মন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরা বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
নতুন চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের প্রস্তাবনা
ড. রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন নতুন বাধা সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নিউইয়র্ক মিশনের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে:
- নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ
- মানব পাচার মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
- বৈষম্যমূলক আইন দূরীকরণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ
সিএসডব্লিউ৭০ অধিবেশনের লক্ষ্য ও সময়সীমা
জাতিসংঘ নারী মর্যাদা কমিশনের ৭০তম অধিবেশনটি মার্চ ৯ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই অধিবেশনের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ শক্তিশালীকরণ
- বৈষম্যমূলক আইন ও নীতিমালা দূরীকরণ
- নারীদের জন্য কাঠামোগত বাধাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও সমাধান করা
বৈদেশিক মন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন ও সমতা বিষয়ক অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে নারী ক্ষমতায়নের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



