হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় মিত্রদের অনীহায় ট্রাম্পের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রমে অংশ নিতে মিত্র দেশগুলোর অনীহায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় কিছু দেশ আগ্রহী হলেও অনেকে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, যা আশ্চর্যজনক।
মিত্রদের অনাগ্রহে ট্রাম্পের হতাশা
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ সব ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে, তাদের এমন অনাগ্রহ মোটেও প্রত্যাশিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আর্থিক ও সামরিকভাবে অনেক দেশকে সুরক্ষা দিয়েছি, কিন্তু সংকটের সময় তাদের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না।’ এই অবস্থানে মিত্রদের উৎসাহের মাত্রাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট
ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংকালে ট্রাম্প জানান, বেশ কিছু দেশ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও অনেক দেশ এই কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্রদের এই নির্লিপ্ততা ট্রাম্প প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
এদিকে সোমবার বেশ কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি চালু রাখার লক্ষ্যে আপাতত কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। মিত্রদের এমন অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। ট্রাম্পের এই অবস্থানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অনেক দেশই ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইছে না।
মার্কিন বাহিনীর অভিযান ও লক্ষ্য
বক্তব্য চলাকালে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৩০টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। তবে ওই এলাকায় বর্তমানে কোনো মাইন নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান। মূলত ওই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত এই সংকটে মিত্রদের অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনাগ্রহীদের তালিকায় এমন কিছু রাষ্ট্র রয়েছে যাদের যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে, যা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
