শ্রীলঙ্কার আদালত ইরানি যুদ্ধজাহাজে নিহত ৮৪ নাবিকের লাশ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে
শ্রীলঙ্কার একটি আদালত গত সপ্তাহে দেশটির উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরান দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিস্তারিত ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
হামলার শিকার যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজটি তখন ভারত আয়োজিত একটি সামরিক মহড়া থেকে ফেরত আসছিল। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ও অন্যান্য ঘটনা
শ্রীলঙ্কার গলে হাবর পুলিশ লাশ হস্তান্তরের জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানায় এবং আদালত বুধবার এটি মঞ্জুর করে। বর্তমানে লাশগুলো গালের ন্যাশনাল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া, শ্রীলঙ্কা আইআরআইএস বুশেহর নামের দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ২০৮ সদস্যকে ৩০ দিনের ভিসা প্রদান করেছে, যারা উপকূলে ইঞ্জিন সমস্যার কারণে দেশটিতে পৌঁছেছিল। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার ডিসানায়কে জানিয়েছেন, এই জাহাজটি পরে ত্রিঙ্কোমালিতে সরানো হবে। হামলায় আইআরআইএস ডেনা থেকে ৩২ জন ব্যক্তি বেঁচে গিয়েছেন, যা ট্র্যাজেডির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।
শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০% অংশীদার এবং ইরান তাদের অন্যতম প্রধান চা ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন করেছে। পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ ভারতীয় বন্দরে আইআরআইএস লাভান নামের তৃতীয় ইরানি জাহাজ ১৮৩ ক্রু নিয়ে নোঙ্গর করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই হামলা ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কার আদালতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনাগুলো如何处理 হবে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে।
