ইরানের ইসফাহানে বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে: আইএইএ প্রধান
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের ইসফাহান শহরে অন্তত ২০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রোসি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে সংস্থাটি বিশ্বাস করে এই বিপজ্জনক পদার্থটি এখনো সেখানেই সংরক্ষিত আছে এবং অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়নি।
হামলার পর পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনে বাধা
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। বিশেষ করে ইসফাহান, নাতাঞ্জ এবং ফোরদোর পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে তখন ব্যাপক বোমা হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই আইএইএ ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হওয়া এসব স্থাপনা সরাসরি পরিদর্শনের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সংস্থাটি নিশ্চিত করতে চায়, সেখানে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তবে ইরানীয় কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক হামলার শিকার হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা প্রোটোকল নেই।
ইরানের অনুমতি না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই যুক্তির ভিত্তিতে ইরান এখন পর্যন্ত আইএইএকে এসব স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেয়নি। এমনকি, হামলার পর ইউরেনিয়ামের গতিবিধি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তারা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে শেয়ার করেনি। এই অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই অনড় অবস্থান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) শর্তাবলীর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। গ্রোসির এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আইএইএ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনায়ও এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
