যুক্তরাজ্য ইরানে হামলায় অংশ নেবে না, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
যুক্তরাজ্য ইরানে হামলায় অংশ নেবে না: প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

যুক্তরাজ্য ইরানে হামলায় অংশগ্রহণ করবে না, ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলায় তার দেশ সরাসরি অংশ নেবে না। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

স্টারমার বলেন, 'ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব স্থানে সংরক্ষিত বা প্রস্তুত রয়েছে, সেগুলোকে উৎসমূলেই থামানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ করেছে।' তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে না পারে।

যুক্তরাজ্যের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, যুক্তরাজ্য 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের' সঙ্গে হামলায় অংশ নেবে না। তিনি বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সহায়তা করছি, আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপ নয়।' এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ফ্রান্স ও জার্মানিও অনুরূপ অনুমতি দিতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষমতা রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার এই পদক্ষেপটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত উদ্যোগের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। স্টারমার উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রান্স ও জার্মানিও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ইচ্ছুক, যা ইরানের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে।

এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাজ্যের ভূমিকা সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক নীতির একটি সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা।