ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, আঞ্চলিক উত্তেজনায় শঙ্কা
ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, আঞ্চলিক উত্তেজনায় শঙ্কা

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক শুক্রবার ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে “অত্যন্ত উদ্বিগ্ন” বলে জানিয়েছেন। তিনি জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা ও বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি আশা করি যুক্তির কণ্ঠস্বর জয়ী হবে।”

ইরান-মার্কিন পরমাণু আলোচনা ও সামরিক সংকট

টার্কের এই মন্তব্য আসে জেনেভায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু বিষয়ক নতুন এক দফা পরোক্ষ আলোচনার পর। এই আলোচনাকে দীর্ঘদিনের শত্রু দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ এড়ানোর শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে তেহরানের কাছে ১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের সময়সীমা দিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দশকগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তার বৃহত্তম সামরিক সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের চিত্র

ভলকার টার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকেও আলোকপাত করেছেন। গত মাসে তেহরান সরকার দেশব্যাপী বিক্ষোভের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। টার্ক পরিষদকে জানান, “ওই দমন-পীড়নের পর ইরানের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, “সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন এক বিক্ষোভের ঢেউ দেখা দিয়েছে, যা প্রমাণ করে অন্তর্নিহিত অসন্তোষ এখনও বিদ্যমান।”

তিনি আরও বলেন, “দমন-পীড়নের খবর অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তার ও শিক্ষাক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, “হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।”

মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান

টার্ক বলেন যে তিনি “বিক্ষোভের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত আট জনের, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের রিপোর্টে ভীত”। তিনি সতর্ক করেন যে, “আরও ৩০ জন একই শাস্তির ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আমি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, ন্যায্য বিচারের নিশ্চয়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের উপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশের আহ্বান জানাই।”

জাতিসংঘের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য ইরানে চলমান মানবাধিকার সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার এই আহ্বান একটি জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রাধিকার দাবি করে।