পাক-আফগান সীমান্ত সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান
পাক-আফগান সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের শান্তি আহ্বান

পাক-আফগান সীমান্ত সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ ও শান্তির আহ্বান

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি দুই দেশকেই উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের পর্যবেক্ষণ ও তাগিদ

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, অ্যান্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার খবরগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। গুতেরেস বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, চলমান এই সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

গত কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সীমান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘ প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সহিংসতা আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তান পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এ হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ আফগান সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২ শতাধিক। এ ছাড়া আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই সংঘাতের পটভূমিতে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্টের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য, যিনি সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানে আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এই সংকটে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।