ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন কনস্যুলার সেবা: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন কনস্যুলার সেবা, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন কনস্যুলার সেবা: আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের দুটি ইসরায়েলি বসতিতে প্রথমবারের মতো অন-সাইট কনস্যুলার সেবা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবরটি প্রকাশ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মার্কিন দূতাবাসের ঘোষণা ও ফিলিস্তিনি প্রতিক্রিয়া

জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার মাত্র এক দিনের জন্য পশ্চিম তীরের এফ্রাত বসতিতে মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্ট সেবা দেওয়া হবে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ইসরায়েলি দখলদারদের প্রতি নগ্ন পক্ষপাতিত্ব।

কমিশনের প্রধান মুয়াইদ শাবান বলেন, এই পদক্ষেপ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দেবে। অন্যদিকে হামাস একে একটি বিপজ্জনক নজির এবং অবৈধ বসতির বৈধতার স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের এই সমালোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মার্কিন সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির সিনিয়র পলিসি ফেলো হিউ লোভাট এই পদক্ষেপের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি একজন কট্টর বৃহত্তর ইসরায়েল সমর্থক। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সংকেত দিচ্ছে যে, তারা পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে ইসরায়েলের ভেতরের অন্য শহরগুলোর চেয়ে আলাদা করে দেখবে না।

পশ্চিম তীরের এফ্রাত বসতিতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন অভিবাসী বসবাস করেন। দূতাবাস জানিয়েছে, আগামী মাসে বেইতার ইলিট নামক আরেকটি বসতিসহ ফিলিস্তিনি শহর রামাল্লা এবং ইসরায়েলের তিনটি শহরেও এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে কয়েক হাজার মার্কিন-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক বসবাস করছেন, যা এই সেবার চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল কর্তৃক দখলকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বাস করেন, যাদের বিপরীতে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে বসতি স্থাপনের তৎপরতা আরও বেড়েছে। সম্প্রতি পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সামরিক অভিযান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • গত সপ্তাহেই একটি গ্রামে হামলার সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক নিহত হন।
  • এছাড়া গত মঙ্গলবার দক্ষিণ হেবরন পাহাড়ের মাসাফের ইয়াত্তাসহ কয়েকটি গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবং মার্কিন কনস্যুলার সেবার সিদ্ধান্ত এই প্রেক্ষাপটে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের সমাধানকে কঠিন করে তুলতে পারে।