সংস্কৃতিমন্ত্রীর ভিডিও বার্তায় ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ভবনে একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক উদযাপন
মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জাতিসংঘ ভবনের সামনে নিউইয়র্ক মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচিকে চলমান রাখারও আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে সমবেত প্রবাসী ও ভাষাপ্রেমী মানুষদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাদেশ ও বাঙালিদের জন্য নয়, এটি সারা বিশ্বের ভাষাপ্রেমী মানুষের কাছে একটি অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে স্বীকৃত।
নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, ১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে এবং এটি আজ ভাষাগত বৈচিত্র্য, সংস্কৃতির পরিচয় ও মানবিক মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ ভবনের সামনে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়ে আসছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রচেষ্টায় ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে।
ভাষা আন্দোলনের সার্বজনীন তাৎপর্য
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের সামনে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে, যা স্মরণ করিয়ে দেয় যে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন কেবল একটি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ছিল না, বরং এটি মানবতা, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা মর্যাদার সংগ্রাম। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালি চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে এই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুধু শহীদদের স্মরণেই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গৌরবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, আজকের আয়োজনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে। নিতাই রায় চৌধুরী বিশ্বাস করেন যে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় আরও অঙ্গীকারবদ্ধ হবে।
