ইরানে হামলার অনুরোধ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাজ্য, ট্রাম্পের প্রতি কড়া অবস্থান স্টারমারের
ইরানে হামলার অনুরোধ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাজ্য

ইরানে হামলার অনুরোধ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাজ্য, ট্রাম্পের প্রতি কড়া অবস্থান স্টারমারের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলায় ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হতে পারে এমন কোনো অভিযানে ব্রিটিশ ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফোনালাপে আলোচনা ও ব্রিটিশ উদ্বেগ

দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প এবং স্টারমারের মধ্যে ফোনালাপে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। মূলত ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা ইউরোপে মার্কিন ভারি বোমারু বিমানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে হলে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আগাম সমঝোতা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলাকে প্রি-এম্পটিভ বা আগাম আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করে ব্রিটেন এই অনুমতি দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ব্রিটেনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তিনি ব্রিটেনকে ওকিজম বা অতি-উদারপন্থি ধারণা ত্যাগ করে শক্ত অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও উল্লেখযোগ্য হলো, এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ব্রিটিশ সরকারের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের ওপর থেকে মার্কিন সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও ব্রিটেনের এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে ব্রিটেনের দূরে সরে থাকাটা তাদের ভুল পক্ষ বেছে নেওয়ারই নামান্তর।

হোয়াইট হাউসের অবস্থান ও ইরানের প্রতি আল্টিমেটাম

এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে ইরান সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে আগ্রহী হলেও তার হাতে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। তিনি ইরানকে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে আসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এই পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক মিত্রতার ওপর একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান সংকট মোকাবিলায় পশ্চিমা জোটের মধ্যে এই বিভেদ ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে। ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির অগ্রাধিকারকে প্রতিফলিত করে, যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।