যুক্তরাজ্যে প্রথম নারী মন্ত্রিপরিষদ সচিব: অ্যান্টোনিয়া রোমিওর ঐতিহাসিক নিয়োগ
যুক্তরাজ্যে প্রথম নারী মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ

যুক্তরাজ্যে প্রথম নারী মন্ত্রিপরিষদ সচিব: অ্যান্টোনিয়া রোমিওর ঐতিহাসিক নিয়োগ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার অ্যান্টোনিয়া রোমিওকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন। রোমিওর কাঁধে এখন স্টারমার সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার গুরুভার পড়েছে।

ক্রিস ওয়ারমন্ডের স্থলাভিষিক্ত রোমিও

অ্যান্টোনিয়া রোমিও ক্রিস ওয়ারমন্ডের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের জেরে ওয়ারমন্ড স্টারমারের সরকার থেকে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে পদত্যাগ করেন। রোমিও যুক্তরাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি বিভাগে কাজ করেছেন, সর্বশেষ তিনি স্বরাষ্ট্র বিভাগের স্থায়ী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও সংস্কার প্রক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার রোমিওকে একজন ‘অসাধারণ সরকারি কর্মকর্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর পেশাদারি ও কাজ শেষ করার দৃঢ় সংকল্প আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ স্টারমার যোগ করেন, অ্যান্টোনিয়া প্রমাণ করেছেন যে সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে রোমিওর নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে।

বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, নিউইয়র্কে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে রোমিওর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে নিয়োগের আগে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের মুখপাত্র জানান, ৯ বছর আগে রোমিওর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু ‘ভিত্তিহীন হওয়ায় সেই অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।’

রোমিওর পেশাদারি জীবন ও প্রতিক্রিয়া

অ্যান্টোনিয়া রোমিও ২০০০ সালে পেশাদার অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল এবং নিউইয়র্কভিত্তিক মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিচার বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের স্থায়ী সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর রোমিও সিভিল সার্ভিসের নেতৃত্ব দেওয়াকে ‘বিরাট সম্মান’ বলে মন্তব্য করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটি একটি ‘সাধারণ ও অনন্য প্রতিষ্ঠান, যাকে আমি ভালোবাসি।’ রোমিও যোগ করেন, ‘সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের দক্ষতা, কার্যকারিতা ও উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিতে হবে।’