ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ উদ্বোধন: গাজা পুনর্গঠনে বড় অঙ্গীকার
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বঘোষিত 'বোর্ড অব পিস' বা শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 'ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস'-এ অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে গাজা পুনর্গঠনের কৌশল ও অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন ট্রাম্প। গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পর্ষদের স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছিল।
পর্ষদের গঠন ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউস মোট ৫০টি দেশকে এ পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও ৩৫টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তালিকায় নাম লিখিয়েছে, অন্যদিকে ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প নিজেই এ পর্ষদের আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান: ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না এবং কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনও যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, কসোভো ও আলবেনিয়া সদস্য হিসেবে যোগ দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অংশগ্রহণ: ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, কাতার ও কুয়েত পর্ষদে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সর বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
এশিয়া ও ওশেনিয়া: পাকিস্তান একমাত্র দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে যোগ দিচ্ছে, ভারত এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী বৈঠকের এজেন্ডা ও অর্থায়ন
বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রণয়ন। পর্ষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে 'গাজার মানবিক ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায়' ৫ বিলিয়ন ডলার (৫০০ কোটি ডলার) তহবিলের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি 'আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী' গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বাহিনী গাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন
- হামাসের নিরস্ত্রীকরণ
- অন্তর্বর্তী সময়ে গাজা শাসনের জন্য বিশেষজ্ঞ শাসন কাঠামো গঠন
সমালোচনা ও বিতর্ক
সমালোচকেরা এ পর্ষদকে ট্রাম্পের 'সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পর্ষদ কার্যত জাতিসংঘকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, 'শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।' তিনি আরও দাবি করেছেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলো গাজাবাসীর নিরাপত্তায় ও শান্তি বজায় রাখতে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার কথা থাকলেও এখন এ পর্ষদ বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে।
