ইরান-মার্কিন পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু সময় সংকটের সতর্কতা
ইরান-মার্কিন আলোচনায় অগ্রগতি, সময় সংকট সতর্কতা

ইরান-মার্কিন পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু সময় সংকটের সতর্কতা

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেন, আলোচনায় হয়তো এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি এবং আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভা বৈঠক

ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ সপ্তাহে দুই পক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর ভেঙে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আলোচনার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ছায়া ফেলছে, যা প্রক্রিয়াকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

গ্রোসির সাক্ষাৎকারে বাস্তব আলোচনার সূচনা

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এলসিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, “বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে, কী করতে হবে এবং কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়ে কথা হচ্ছে।” আর্জেন্টাইন কূটনীতিক গ্রোসি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছানোর সদিচ্ছা রয়েছে, তবে এমন একটি চুক্তি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

ইরানের সহযোগিতা স্থগিত ও অভিযোগ

গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান আইএইএর সঙ্গে কিছু সহযোগিতা স্থগিত করে। ইরান অভিযোগ তোলে, সংস্থাটি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়, যা আলোচনাকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও সতর্কতা

এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেন, যা বর্তমান আলোচনায় উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রেখেছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, গ্রোসির সময় সংকটের সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ পারমাণবিক চুক্তির মতো জটিল বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি অপরিহার্য।