ভ্যাটিকান অংশ নেবে না ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে, জাতিসংঘের ভূমিকায় জোর
ভ্যাটিকান অংশ নেবে না ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে

ভ্যাটিকান অংশ নেবে না ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগে অংশগ্রহণ করবে না ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বোর্ডের প্রকৃতি ও ভ্যাটিকানের অবস্থান

কার্ডিনাল পারোলিন ব্যাখ্যা করেন, 'বোর্ড অফ পিস'-এর বিশেষ প্রকৃতির কারণেই ভ্যাটিকান এতে অংশ নেবে না, কারণ আমাদের অবস্থান অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো নয়। তিনি আরও যোগ করেন, 'আমাদের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক স্তরে যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাগ্রে জাতিসংঘকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এটি এমন একটি পয়েন্ট যেটির ওপর আমরা বরাবরই জোর দিয়ে আসছি।'

ট্রাম্পের উদ্যোগ ও সমালোচনা

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচক এবং ইতিহাসের প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে পরিচিত পোপ লিও-কে গত জানুয়ারিতে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে গাজার সাময়িক শাসন তদারকি করার জন্য ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তার সভাপতিত্বে এই বোর্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে যাতে এটি বৈশ্বিক সংঘাতগুলো নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিদেশি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয় তদারকির জন্য ট্রাম্পের অধীনে এমন একটি বোর্ড গঠনকে অনেক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞই 'ঔপনিবেশিক কাঠামো'র সঙ্গে তুলনা করেছেন। গত মাসে চালু হওয়া এই বোর্ডটিতে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি না রাখায় এটি শুরু থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই বোর্ড গঠনের ফলে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও গাজার পরিস্থিতি

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মিত্র রাষ্ট্র এই উদ্যোগে যোগ দিলেও পশ্চিমা মিত্ররা এখন পর্যন্ত দূরত্ব বজায় রেখেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় হবে গাজার পুনর্গঠন।

এদিকে, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভ্যাটিকানের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।