পেরুর প্রেসিডেন্ট হোসে হেরি অভিশংসনে পদ হারালেন
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় কংগ্রেসের অভিশংসনে পদ হারালেন পেরুর প্রেসিডেন্ট হোসে হেরি। একজন চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠকের খবর গোপন রাখার অভিযোগে জড়িয়ে তিনি এই অভিশংসনের মুখে পড়েন। প্রায় এক দশক ধরে রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু, এবং রাষ্ট্রপ্রধান অভিশংসিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই ধারাবাহিক অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
কংগ্রেসের ভোটে অভিশংসন
গতকাল মঙ্গলবার পেরুর কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ৭৫ জন সদস্য ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২৪ জন, এবং তিনজন ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন। এই ভোটের ফলে হোসে হেরি পদ হারান, এবং এখন আইনপ্রণেতারা কংগ্রেসের নতুন একজন প্রধান নির্বাচন করবেন, যিনি পেরুর নতুন ও অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। আজ এই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
‘চিফাগেট’ কেলেঙ্কারির বিস্তারিত
‘চিফাগেট’ কেলেঙ্কারির নাম জড়িয়ে পদ হারালেন হোসে হেরি। এই কেলেঙ্কারির শুরু গত মাসে, যখন একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে হুডি পরে একটি চীনা রেস্তোরাঁয় ঢুকছেন হেরি। সেখানে তিনি চীনা ব্যবসায়ী জিহুয়া ইয়াংয়ের সঙ্গে দেখা করেন, যার পেরুতে বেশকিছু দোকান রয়েছে এবং একটি জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছেন। এই বৈঠকটির কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, যা অভিশংসনের মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের পক্ষে সরব আইনপ্রণেতা রুথ লুক বলেন, তিনি হেরির বদলে এমন একজন রাষ্ট্রনেতাকে চান, যিনি সবার আগে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবেন। তিনি বলেন, ‘এ যন্ত্রণার দ্রুত নিরসন করতে হবে; যাতে দেশের মানুষ যে সত্যিকারের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রত্যাশা করছে, সেটা আমরা করতে পারি। গোপন স্বার্থ, প্রভাব খাটানো, গোপন বৈঠক আর ছদ্মবেশী লোকজন নিয়ে কোনো ক্ষমতা হস্তান্তর—আমরা এমনটা চাই না।’
পেরুর সংবিধান অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের বর্তমান প্রধান ফার্নান্দো রসপিগলিওসির রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা, কিন্তু তিনি প্রেসিডেন্ট হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ কারণে আইনপ্রণেতারা কংগ্রেসের নতুন একজন প্রধান নির্বাচন করবেন, যিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদেও বসবেন। আগামী ১২ এপ্রিল পেরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা, তার আগে দেশটি একজন অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান পাবে।
এই ঘটনা নিয়ে পেরুতে হোসে হেরিসহ পরপর তিনজন রাষ্ট্রপ্রধানকে পদ থেকে অপসারণ করা হলো, যা দেশটির রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া হেরির পদচ্যুতি লাতিন আমেরিকার এই দেশটির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
