ইরান-মার্কিন দ্বিতীয় দফা পরমাণু আলোচনা: সমঝোতায় 'মূল নীতিগুলো', মহড়ায় উত্তেজনা
ইরান-মার্কিন পরমাণু আলোচনা: সমঝোতায় 'মূল নীতিগুলো'

ইরান-মার্কিন দ্বিতীয় দফা পরমাণু আলোচনা: সমঝোতায় 'মূল নীতিগুলো', মহড়ায় উত্তেজনা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশ পারমাণবিক চুক্তির 'মূল নীতিগুলো'তে সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে কারিগরি দিকগুলো এখনো বাকি রয়েছে এবং চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ চলছে।

আলোচনার বিস্তারিত ও ইতিবাচক বার্তা

জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। দুই পক্ষ ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করেছে। আলোচনায় দুই দেশের পরমাণুবিজ্ঞানী, আইনবিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, 'তেহরান ও ওয়াশিংটন চুক্তির মূল নীতিগুলোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। যদিও অনেক কারিগরি দিক এখনো বাকি, তবে আলোচনার মূল ভিত্তিতে দুই দেশই একমত হতে পেরেছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের কোনো চেষ্টা করছে না, এটি তারা বারবার বলে আসছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর এই অগ্রগতিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির খসড়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ

তৃতীয় দফার বৈঠকের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি। আরাগচি জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর উভয় পক্ষ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে এখন খসড়া তৈরির কাজ চলবে, তারপর সেগুলো বিনিময় করা হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

ইরানের সামরিক মহড়া ও রাজনৈতিক অবস্থান

আলোচনা চলাকালীনই ইরান হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথের কিছু অংশ বন্ধ করে দিয়েছে। এই মহড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালনা করে। ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার বলেছিলেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় 'পরোক্ষভাবে' যুক্ত থাকবেন, তবে গতকালের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত নয়। ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখন চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া এবং চুক্তি না করার ভয়াবহ পরিণতি তারা ভোগ করতে চাইবে না।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে বলেন, ওয়াশিংটন জোর করে তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। তিনি ট্রাম্পের সরকার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে মন্তব্য করেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, তাঁদের সেনাবাহিনী বিশ্বের শক্তিশালী। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীকেও মাঝেমধ্যে এমন জোরে চড় মারা যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না।'

এই আলোচনা ও সামরিক মহড়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে কূটনৈতিক অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।