শ্রীলঙ্কা প্রত্যাহার করল পাকিস্তানের 'নেগেটিভ ভিসা' তালিকা থেকে নাম
শ্রীলঙ্কা প্রত্যাহার করল পাকিস্তানের নেগেটিভ ভিসা তালিকা

শ্রীলঙ্কা প্রত্যাহার করল পাকিস্তানের 'নেগেটিভ ভিসা' তালিকা থেকে নাম

শ্রীলঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে সব ধরনের 'নেগেটিভ ভিসা'র তালিকা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি কলম্বোতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের এক বৈঠকে গৃহীত হয়। এটি পাকিস্তানি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা দূরীকরণ এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকের মূল আলোচনা ও সিদ্ধান্ত

বৈঠকে মোহসিন নকভি পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা–সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পাকিস্তানকে সব 'নেগেটিভ' তালিকা থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে এখন থেকে পাকিস্তানি ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ী মহল শ্রীলঙ্কায় ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বস্তি পাবেন।

এই বৈঠকে প্রবাসী পাকিস্তানিদের বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হুসেইন এবং শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার মেজর জেনারেল (অব.) ফাহিমুল আজিজও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা

প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন যে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই পাকিস্তান সফর করবেন, যা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

মোহসিন নকভি পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সক্রিয় ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। এই সিদ্ধান্তটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের প্রতি তার বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ভিসা নীতির এই পরিবর্তন পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি বয়ে আনবে এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পাবে।