পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু, ট্রাম্পের পরোক্ষ অংশগ্রহণ
পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, ট্রাম্পের অংশগ্রহণ

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফার বৈঠক শুরু

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জেনেভা আগমন

বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার জেনেভায় পৌঁছান। এর আগে, তিনি আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে দেখা করেন। আরাগচি জানিয়েছেন, এবার তিনি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তির জন্য বাস্তব প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, যা প্রথম দফার বৈঠকের চেয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।

প্রথম দফার বৈঠকের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে ইরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে এবারের বৈঠকে ইরান স্পষ্ট করেছে যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে কোনো সমঝোতা হবে না। তাদের মতে, চুক্তি হতে হবে দেয়া-নেয়ার ভিত্তিতে, এবং শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তারা মানবে না।

মধ্যস্থতাকারী ও মার্কিন প্রতিনিধিদল

এই বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি উপস্থিত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন যে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আছে, কিন্তু চুক্তি করা কঠিন হবে বলে মনে করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও বৈঠকের গুরুত্ব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন এবং এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার বিশ্বাস ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, যা বৈঠকের ফলাফলের দিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।

বৈঠকের প্রাক্কালে, ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আলোচনার দিকে নজর রাখছে, যা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।