সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা হাইতিতে নবগঠিত 'গ্যাং দমন বাহিনী'তে অংশ নেবেন। এটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে একটি উদ্যোগ।
বুধবার ঢাকার সেনাকুঞ্জে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই তথ্য জানান।
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, 'আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নয়টি মিশনে মোট ৪,২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ পর্যন্ত মোট ৩,৯০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ২৯৪ জন নারী বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।'
জেনারেল ওয়াকার বলেন, 'জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং এটি এখন একটি স্বীকৃত ও গৃহীত নাম।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও প্রকৌশল সহায়তা এবং নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) অনুসারে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছে। সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ মে ঈদুল আজহার ছুটির সাথে মিলে যাওয়ায় এ বছর এই দিবসটি বুধবার পালিত হয়। এই দিনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক। সর্বোচ্চ পদমর্যাদার শান্তিরক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বিশেষ বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এ কে এম শামসুল ইসলাম ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (রুটিন চার্জ), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।



