বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর ১০০ জন প্রভাবশালী সমাজসেবকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। বিশ্বজুড়ে জনকল্যাণ ও সহযোগিতার প্রথাগত ধারণা বদলে দিয়ে নতুন ধারার নেতৃত্ব প্রদানের জন্য তাকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাকের হাইব্রিড মডেল
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যখন বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন আসিফ সালেহর নেতৃত্বে ব্র্যাক এক নতুন ‘হাইব্রিড মডেল’ সামনে আনে। এশিয়া ও আফ্রিকার ১৪৫ মিলিয়ন মানুষের কাছে ব্র্যাকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কৌশলগত নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
উন্নয়ন একটি অংশীদারত্ব
আসিফ সালেহর মতে, উন্নয়ন কোনো একক 'দান' নয়, বরং এটি একটি অংশীদারত্ব যেখানে উপকারভোগীরা সরাসরি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকেন। আসিফ সালেহ তার কাজের ধরনে গ্লোবাল-নর্থ বা পশ্চিমা উন্নয়ন ধারা থেকে আলাদা হয়ে স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ব্র্যাক কেবল সমস্যা সমাধান করে না, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মিশে তাদের প্রকৃত প্রয়োজনটি আগে অনুধাবন করার চেষ্টা করে। দক্ষিণ গোলার্ধের বা গ্লোবাল-সাউথের এই দেশজ অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্র্যাকের ইতিহাস ও বর্তমান
১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে 'বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি' বা ব্র্যাক যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠানটি আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এনজিও হিসেবে স্বীকৃত। আসিফ সালেহর নেতৃত্বে সেই কার্যক্রম এখন আরও বিস্তৃত পরিসরে দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান বদলে দিচ্ছে। টাইম ম্যাগাজিনের এই স্বীকৃতি কেবল আসিফ সালেহর নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের এক বিশ্বজনীন জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।



