ভারতের কবরস্থানে লুকানো ৪১৪ গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ, ১০ জন আটক
ভারতের হায়দরাবাদ শহরের একটি কবরস্থান থেকে লুকিয়ে রাখা ৪১৪টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মজুতদারি ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান
জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র গতকালই প্রায় ২ হাজার ৬০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০০টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হায়দরাবাদের কবরস্থান থেকে প্রায় ৪০০টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা কবরস্থান থেকেই বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি—দুই ধরনের সিলিন্ডার বিক্রি করছিল, এবং সেগুলো বাজারদরের প্রায় তিন গুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের স্বাভাবিক দাম প্রায় ২ হাজার ১০০ রুপি হলেও, তা সর্বোচ্চ ৬ হাজার রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের পটভূমি
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ, যার প্রায় ৬০ শতাংশ চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়—বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে ভারতে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা মজুতদারি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
সুজাতা শর্মা দাবি করেছেন, ‘দেশের গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা থাকা সত্ত্বেও এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি।’
অভিযানের আর্থিক মূল্য ও সরকারি পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা সিলিন্ডার এবং অভিযুক্তদের ব্যবহৃত কিছু গাড়ির মোট মূল্য প্রায় ২২ লাখ রুপি। তবে অভিযুক্ত বা তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স সংবাদ সংস্থা।
এলপিজি সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে ভারত সরকার কেরোসিন, কয়লা ও বায়োগ্যাসের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুতগতিতে ঘরে ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



