ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস-লরি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১২
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি টিপার লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে প্রকাশম জেলার মারকাপুরাম এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রাথমিকভাবে আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০ জন আহত যাত্রীকে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মারকাপুরামের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) নাগরাজু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলস’ নামের বেসরকারি বাসটি তেলেঙ্গানার নির্মল শহর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোরের দিকে যাচ্ছিল।
ভোর প্রায় ৬টার দিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টিপার লরির সঙ্গে বাসটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ১৮ থেকে ২০ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি এক বার্তায় বলেন যে, বেশ কয়েকজন যাত্রীর জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার খবর অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশও এই ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন যে, টিপার লরি ও বেসরকারি বাসের এই সংঘর্ষে এতগুলো প্রাণ হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি আরও জানান, আহতদের সুচিকিৎসার বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে শক্তভাবে দাঁড়াবে। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
বর্তমান অবস্থা ও তদন্ত
বর্তমানে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করছে এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।



