অন্ধ্র প্রদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য একটি অভিনব পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তাঁর সরকার দুই বা তার বেশি সন্তান জন্মদানকারী দম্পতিদের আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে সন্তান পিছু ২৫ হাজার রুপি প্রদান করবে। এই টাকা সন্তান জন্মের সময়েই সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
জন্মহার বৃদ্ধির জরুরি পদক্ষেপ
গত বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় সরকারের এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী নাইডু বলেন, অন্ধ্র প্রদেশে জন্মহার বা ‘টোটাল ফার্টিলিটি রেট’ (টিএফআর) মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে এই হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা প্রতিস্থাপন স্তর বা ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’–এর নিচে অবস্থান করছে। নাইডু সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী দিনে এই হার ২ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করা। সেই উদ্দেশ্যেই দম্পতিদের সন্তানসংখ্যা বৃদ্ধিতে আর্থিক প্রণোদনার এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি মাসেই এই পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে বলে তিনি আভাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও লোকসভা আসন বণ্টন
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির এক গূঢ় অঙ্ক। লোকসভায় রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে। ভারতে প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়ে থাকে, এবং ২০২৬ সালে লোকসভার আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের লোকসভা আসন ২৫ থেকে বেড়ে ২৮ হতে পারে। তবে দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো অন্ধ্র প্রদেশও জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে সাফল্য পেয়েছে, যার ফলে উত্তর ও মধ্য ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পেতে পারে।
গত বছরের মার্চে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলোর পাশাপাশি বিরোধীশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এক সম্মেলন ডেকেছিলেন। সেখানে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস ৩০ বছর স্থগিত রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। নাইডু সেই সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও জনসংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনায় চিন্তিত ছিলেন। তিনি তখনই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কৌশল
চন্দ্রবাবু নাইডু সরাসরি লোকসভা আসন বিন্যাসের বিরোধিতা না করে রাজ্যের স্বার্থে জন্মহার বাড়ানোর এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছেন। বিজেপির শরিক দল টিডিপির নেতা হিসেবে তাঁর পক্ষে বিরোধীদের সঙ্গে সরাসরি জোটবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু জনসংখ্যা হ্রাসের বিপদ তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চাইছেন।
অন্ধ্র প্রদেশের এই আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এটি দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারে, যেখানে জন্মহার বৃদ্ধির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
