এপস্টেইন ফাইলে ভারতীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর নাম, বিরোধীদের পদত্যাগের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাইলে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নাম প্রকাশিত হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ফাইলে কী উল্লেখ আছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস সম্প্রতি এপস্টেইন ফাইলের বিপুল সংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের ইমেইল মাধ্যমে কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। এপস্টেইন ২০০৮ সালেই যৌন অপরাধী হিসেবে ঘোষিত হলেও হরদীপ পুরী ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, এপস্টেইন হরদীপ পুরীকে লিঙ্কডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে সহায়তা চেয়েছিলেন। হরদীপ পুরীও হফম্যানের ভারত সফরে সহায়তার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া, এপস্টেইনের এক সহকারীর ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা চাওয়া এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ও ইমেইলে উঠে এসেছে।
বিরোধী দলের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এপস্টেইন ফাইলে হরদীপ পুরীর নাম প্রকাশিত হওয়ার পর কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। দলটি মন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ছয়টি প্রশ্ন তুলেছে:
- এপস্টেইন কীভাবে হরদীপ পুরী ও রিড হফম্যানের বৈঠক আগে থেকেই জানতেন?
- এপস্টেইন কি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন?
- হরদীপ পুরী কেন এপস্টেইনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন?
- এপস্টেইনকে কেন 'বন্ধু' হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছিল?
- এপস্টেইন হরদীপ পুরীকে দিয়ে কী করাচ্ছিলেন?
- সম্পর্ক কাকতালীয় হলে মন্ত্রী কেন এপস্টেইনের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছিলেন?
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দাবি করেছেন, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হরদীপ পুরী ও এপস্টেইনের মধ্যে ৬২ বার ইমেইল চালাচালি হয়েছে।
হরদীপ পুরীর আত্মপক্ষ সমর্থন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী একটি সংবাদ সম্মেলনে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিউ ইয়র্কে আট বছর ছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হতো।
হরদীপ পুরী জানান, তিনি কেবল রিড হফম্যানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য এপস্টেইনের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছিলেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করেছিলেন একজন দূরদর্শী বেসরকারি নাগরিক হিসেবে। ভিসা সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুরোধটি তিনি নিজে সামলাননি, একজন সহকর্মীর কাছে পাঠিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের চাপের মুখে হরদীপ পুরীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
