বিহারে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা
ভারতের বিহার রাজ্যে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিহারে যত্রতত্র প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানিরা নির্দিষ্ট স্থানে মাংস বিক্রি করতে পারবেন।
নতুন নিয়মের বিস্তারিত
উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা ব্যাখ্যা করেছেন যে নতুন নিয়ম চালু হলে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরাই মাংস বিক্রি করার অনুমতি পাবেন। বিহারে প্রকাশ্যে রাস্তার পাশে বা যেখানে-সেখানে মাংস বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কবে থেকে কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ
বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "তবে কি শপিং মলে মাংস বিক্রি হবে? আমাদের মাছ-মাংসের চাষিরা তো রাস্তায় বসেন। পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। তাই আজ যদি বলা হয়, বাংলায় মাছ বিক্রি বন্ধ। মাংস বিক্রি, ডিম বিক্রি বন্ধ? কারণ, আজ বিজেপি অন্ধ?"
উত্তর প্রদেশের পথে বিহার?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মাংস বিক্রি নিয়ে প্রকৃতপক্ষে বিজেপি-শাসিত উত্তর প্রদেশের সরকারের পথেই হাঁটতে শুরু করেছে বিহার সরকার। গত বছরের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার রাজ্যে সব ধর্মীয় স্থানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। উত্তর প্রদেশ সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছিল:
- রাজ্যের কোনো দোকানের বাইরে মাংস ঝুলিয়ে রেখে বিক্রি করা যাবে না
- দোকানিকে দোকানের সামনে পর্দা ঝুলিয়ে কিংবা কালো কাচ ব্যবহার করতে হবে
- পথচলতি মানুষ বাইরে থেকে মাংস দেখতে না পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে
বিহারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিহারে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বলা হচ্ছে, বিহারে যেখানে-সেখানে গবাদিপশুর মাংস কেটে বিক্রির রাশ টানতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। তবে বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন যে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথে বাধা সৃষ্টি করবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখছেন।
বিহার সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে রাজ্যের মাংস ব্যবসায়ীদের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ছাড়া অন্য কোথাও মাংস বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে, যা অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে আর্থিক সংকটে ফেলতে পারে।
