বিজেপি জয়ের পর কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙচুর
বিজেপি জয়ের পর কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙচুর

পশ্চিমবঙ্গের নিউমার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশির ভাগ মুসলিম। ৫ মে ২০২৬, কলকাতা ছবি: সৌম্য মণ্ডল।

বিজেপি জয়ের পর বুলডোজার তাণ্ডব

বিজেপি নির্বাচনে জয়ের দুই দিনের মধ্যেই উত্তর ভারতের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হগ মার্কেট বা নিউমার্কেটে দোকানঘরে বুলডোজার চালানো শুরু হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে বুলডোজার চালিয়ে একাধিক দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত সোমবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তারপর এ ঘটনা উদ্বিগ্ন করেছে প্রশাসনকে। বুলডোজার নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেটের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী সৌম্য মণ্ডল। তিনি প্রথম আলোকে জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা-সাতটা নাগাদ বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ভাঙা শুরু হয়েছে। সৌম্য মণ্ডল বলেন, ‘একটা বড় অংশজুড়ে ঘটনাটা ঘটেছে। আমি ও আমার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু ঘটনার অল্পই দেখতে পেয়েছি এবং ভিডিও করতে পেরেছি। কলকাতা পৌরসভার উল্টো দিকে একটি কাপড়ের দোকানে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তেই সেটি মাটিতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সৌম্য ও তাঁর এক বন্ধু ইউপি-বিহার নামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে খেয়ে বের হচ্ছিলেন। সেই রেস্তোরাঁর পাশে ওই কাপড়ের দোকানের অবস্থান। ইউপি-বিহার নিউমার্কেটের একটি বড় খাবারের দোকান, যেখানে গরুর মাংসও পাওয়া যায়। সৌম্য মণ্ডল বলেন, বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর শুরু হলেই দোকানের কর্মীরা আলো নিভিয়ে দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজেপির স্লোগান ও পুলিশের উপস্থিতি

প্রত্যক্ষদর্শী সৌম্য আরও বলেন, ‘এরপর আমরা রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে বুলডোজার দেখতে পাই, যেটি দিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছিল। উচ্চ শব্দে ডিজে চালিয়ে বিজেপির স্লোগান “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দেওয়া হচ্ছিল। “জয় শ্রীরাম” স্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল। পুরো অঞ্চল ছিল বিজেপির পতাকায় মোড়া।’

সৌম্য অভিযোগ করেন, ‘নিউমার্কেট এলাকায় যখন দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছিল, তখন সেখানে উর্দি পরে কলকাতা পুলিশের অসংখ্য সদস্য মোতায়েন ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকজন ছিলেন, তবে তাঁদের ভিডিও আমরা করতে পারিনি। তবে এ ঘটনা পুলিশের সামনেই ঘটেছে।’

ওই অঞ্চলের একাধিক দোকানঘর ভেঙেছে বলে সৌম্য জানান। তিনি বলেন, বাকি কোথায় কী ভেঙেছে, তা তিনি আর দেখেননি। দ্রুত ওই অঞ্চল থেকে সরে আসেন। কারণ, তাঁকে ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।

তৃণমূলের দাবি ও পুলিশের বক্তব্য

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে তাদের একটি দলীয় কার্যালয় এবং সংলগ্ন মানুষের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ভেঙে দেওয়া হয়েছে বা কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের প্রচারমাধ্যমে বিস্তারিত কোনো খবর আজ সকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, বুলডোজার নিয়ে মিছিল করা যাবে না। যেসব মালিক এ ধরনের কাজে বুলডোজার ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।