পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত তিনটি জেলায় মুসলিম ভোটের বিভাজন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জেলাগুলোতে ভোটের মেরুকরণ ও ভাগাভাগির ফলে বিজেপি অতিরিক্ত ১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
নির্বাচনি বিশ্লেষণ
নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা এবার এক অনন্য নজির গড়েছে। ২২টি বিধানসভা আসন বিশিষ্ট এই জেলায় এবার পাঁচটি ভিন্ন রাজনৈতিক দল জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস নয়টি, বিজেপি আটটি, কংগ্রেস দুটি, হুমায়ুন কবিরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেউপি) দুটি এবং সিপিএম একটি আসনে জয় পেয়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, মুর্শিদাবাদের ফলাফল এবার তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। ২০২১ সালে এই জেলায় তৃণমূল ২০টি আসন পেয়েছিল, আর বিজেপি পেয়েছিল মাত্র দুটি। এবারও তৃণমূল মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোর ওপর ভরসা করেছিল, কিন্তু ভোট পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে।
তিন জেলার আসন বণ্টন
তথ্য অনুযায়ী, এই তিনটি জেলায় মোট ৪৩টি বিধানসভা আসন রয়েছে। ২০২১ সালে তৃণমূল এর মধ্যে ৩৫টিতে জিতেছিল এবং বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৮টি। এবার চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১৮টিতে, তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে ২০টি। বাকি ৫টি আসন ভাগ করে নিয়েছে কংগ্রেস, এজেউপি ও সিপিএম।
নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই জয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন, একদিকে হিন্দু ভোটারদের একীভূত হওয়া এবং অন্যদিকে মুসলিম ভোটব্যাংকে ফাটল, এই দুইয়ের কারণেই এমন ফলাফল এসেছে।
শুভেন্দুর এই পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন দেখা গেছে বহরমপুর আসনেও। ওই আসনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফলাফল প্রমাণ করে যে অনেক মুসলিমও আমাদের ভোট দিয়েছেন, কারণ তারাও তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছিলেন।
মালদা ও উত্তর দিনাজপুর
মালদা জেলায় বিজেপি বৈষ্ণবনগর ও মানিকচক এই দুটি অতিরিক্ত আসনে জয় পেয়েছে। ফলে জেলায় তাদের আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেস মুসলিম ভোটের একটি অংশ পাওয়ায় এবং মানিকচকে কংগ্রেস ও সিপিএম উভয়েই সংখ্যালঘু ভোট টানতে পারায় বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক কিছু সহিংসতার ঘটনায় হিন্দু ভোটারদের এককাট্টা হওয়াও বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি আসনেও দেখা গেছে চমকপ্রদ দৃশ্য। মুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকায় সিপিএম ও তৃণমূলের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস।



