দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান, বিজেপির দোরগোড়ায় জয়
দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান, বিজেপির জয়ের দোরগোড়ায়

দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার ষষ্ঠ দফার ট্রেন্ড অনুযায়ী, ১৭৭টি আসনে এগিয়ে থেকে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে গেরুয়া শিবির। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ৯২টি আসনে থমকে আছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কর্মীরা ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে জয়ের উল্লাস শুরু করেছেন।

হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে লড়াই

হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুরে অবশ্য এখন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার লিড ধরে রেখেছেন। ষষ্ঠ দফার গণনা শেষে তিনি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ৭ হাজার ২০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই ফলাফল নিয়ে বিচলিত নন শুভেন্দু। তার দাবি, এখন পর্যন্ত কেবল মমতার মূল ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত অঞ্চলের ভোট গণনা হয়েছে এবং সামনের রাউন্ডগুলোতে ফলাফল পুরোপুরি বিজেপির পক্ষে ঘুরে যাবে। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট আসন নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নিজে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের চেয়ে ৩ হাজার ১০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে থেকে তার অবস্থান শক্ত করেছেন।

শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি

ভোটের এই ঝোড়ো ট্রেন্ডের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় আসীন হলেও রাজ্যের কোথাও কোনো ধরনের অশান্তি বরদাশত করা হবে না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষ একজোট হয়ে বিভাজননীতির বিরুদ্ধে যোগ্য জবাব দিয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপি এবার রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উন্নয়নের অগ্রাধিকার

নতুন সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকারের বিষয়ে তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ কড়া হাতে দমন করা হবে। কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের শাসন অর্থাৎ ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ গঠনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের থমকে যাওয়া উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দেন তিনি। তবে প্রশাসনিক কেন্দ্র আবারও মহাকরণে ফিরবে কি না কিংবা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি জানান, দলের নেতৃত্বই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। জয় নিশ্চিত বুঝে দুপুর ১২টা নাগাদই নিজের দপ্তরে ফিরে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোট-ঐক্যের এই প্রধান কারিগর।