ভারতের মধ্যপ্রদেশের বারগি বাঁধের কাছে নর্মদা নদীতে এক ভয়াবহ নৌকাডুবিতে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারীরা দেখেছেন, এক মা তার চার বছর বয়সি সন্তানকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এই ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।
ঘটনার বিবরণ
দিল্লি থেকে ঘুরতে আসা চার সদস্যের একটি পর্যটক পরিবারের সদস্য ছিলেন তারা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বাবা ও মেয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও, নদী কেড়ে নেয় মা ও ছেলের প্রাণ। এখন পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
বেঁচে ফেরা পর্যটক সৈয়দ রিয়াজ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। চোখের পলকে আমার স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাতি নিখোঁজ হয়ে যায়।
নিজের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি পানির নিচে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলাম, কেবল নাকটুকু পানির উপরে ছিল। আমার পাশ দিয়ে একের পর এক মরদেহ ভেসে যাচ্ছিল। পরে উদ্ধারকারীরা আমাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।
উদ্ধার অভিযান
নিউজ এজেন্সি আইএএনএস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনও পাঁচ শিশুসহ মোট ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সৈয়দ রিয়াজের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
নৌকার ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেলের কাছে লাইফ জ্যাকেট থাকায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ও স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের একাধিক দল নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।



