ভারতে দীর্ঘ এক দশক পর কেরালা রাজ্যে আবারও ক্ষমতায় ফিরলো কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। সোমবার (১৮ মে) তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ভিডি সাতিসান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা, জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধি এবং হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সাতিসানের সঙ্গে তার পুরো মন্ত্রিসভাও একসঙ্গে শপথ নিয়েছে। কেরালার ইতিহাসে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ও তার পুরো মন্ত্রিসভা একসাথে শপথ নিলো।
মন্ত্রিসভার সদস্যগণ
২১ সদস্যের এই ইউডিএফ সরকারে ঠাঁই পেয়েছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রমেশ চেনিথালা, কে মুরালিধরণ এবং কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রধান সানি জোসেফ। এছাড়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) নেতাদের মধ্যে পি কে কুন্নালিকুট্টি, পি কে বশির, এন সামসুদিন, কে এম শাজি এবং ভি ই আব্দুল গফুর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া অন্য মন্ত্রীরা হলেন মন্স জোসেফ, শিবু বেবি জন, অনুপ জ্যাকব, সি পি জন, এ পি অনিল কুমার, টি সিদ্দিকী, পি সি বিষ্ণুনাথ, রোজি এম জন, বিন্দু কৃষ্ণ, এম লিজু, কে এ তুলসী এবং ও জে জেনীশ।
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া
এর আগে ভিডি সাতিসান জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণের কথা বিবেচনা করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন যোগ্য নেতাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শরিক দল এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
গত রবিবার সন্ধ্যায় লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীদের তালিকা হস্তান্তর করেছিলেন সাতিসান। বিগত পাঁচ বছর ধরে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে থাকা সাতিসানকে কেরালায় তৃণমূল স্তরে কংগ্রেসকে পুনর্গঠন করার প্রধান কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মূলত এই বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে বিশাল জয় এনে দিয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল
২০২৬ সালের কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হিসেবে ৬৩টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে ১৪০ আসনের বিধানসভায় সাতিসানের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট পেয়েছে ১০২টি আসন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কেরালায় সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এলডিএফ) ১০ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো।



