লেখকের দাদা ছিলেন কৃষক। তখন প্রতি দশজনের মধ্যে প্রায় সাতজনের উপার্জন কৃষিকাজ থেকে হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে মাত্র দুইজনে দাঁড়িয়েছে। দাদা অনেক হাঁটতেন; কোনো ক্লান্তি ছাড়াই সাত-আট কিলোমিটার হাঁটতে পারতেন। তিনি লেখককে অনেক জায়গায় নিয়ে যেতেন, সব জায়গায় হেঁটেই যেতেন, খালি পায়ে।
যুগের পরিবর্তনে জীবনযাত্রার বিবর্তন
আজকাল মানুষ হরহামেশাই উড়োজাহাজে চড়ে, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ায়। লেখক নিজেও এখন উড়োজাহাজে চড়েন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে যান, উন্নত দেশে থাকেন এবং উন্নত জীবন যাপন করেন। এটি যুগের গতির প্রতিফলন।
একটা সময় ছিল যখন বাড়ি থেকে কক্সবাজার অনেক দূরে মনে হতো। সমুদ্র দেখতে যেতে হলে এক বছর আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হতো। লেখক শুনেছেন কয়েক প্রজন্ম আগে স্বজনেরা মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে বছর শেষে অন্য গ্রামে মেলা দেখতে যেতেন। মেলায় যাত্রাপালা হতো, হালখাতার অনুষ্ঠান হতো। সেই দিনটি মিষ্টিমুখ করে উদযাপনের পাশাপাশি সব বকেয়া হাসিমুখে পরিশোধ করা হতো। তখন সমুদ্র দেখতে যাওয়া ছিল এক প্রকার বিলাসিতা।
সমুদ্র-পাহাড়ের প্রভাব ও মানসিকতা
কবি-সাহিত্যিকরা বলেন সমুদ্র-পাহাড় মানুষের রাগ কমায়। কিন্তু লেখকের মতে, সমুদ্র-পাহাড়ের বিশালতার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শুরুতে আনন্দ লাগলেও ধীরে ধীরে মনের মধ্যে একধরনের শূন্যতা ও আফসোস জন্ম নেয়। আগে মানুষ আনন্দ দেখত কম, আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করত কম; তাই তাদের মধ্যে শূন্যতা ও আফসোসও ছিল কম। তখনকার দিনে বাড়ির পাশে ছায়াঘেরা দিঘিটা ছিল শান্ত জলে ভরা।
আগে কুসংস্কারের মধ্যেও ছিল অনেক সংস্কার। মানবিকতা ও ভালোবাসা যেটুকু ছিল, তা ছিল পরিষ্কার ও নির্ভেজাল। এখন সভ্যতার ভেতরে প্রায় পুরোটাই অসভ্যতা ও হিংস্রতা।



